সরকারি হাসপাতালকে অবশ্যই জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে in বাংলাদেশ
Commoner Law সম্পাদকীয় দল দ্বারা পর্যালোচিত। তথ্যসূত্র: bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত বাংলাদেশের আইন ও অধ্যাদেশ, সরকারি মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার, ও সুপ্রিম কোর্টের রায়। সাধারণ বোঝাপড়ার জন্য সহজ ভাষায় লেখা — এটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট, আইনি পরামর্শ নয়। Our editorial standards
What is this right?
হাসপাতালের গেটে ভর্তি ফি দিতে না পারার কারণে বাংলাদেশে কারো মৃত্যু হওয়া উচিত নয়। কুমিল্লার একটি পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কিশোর ছেলেকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে; দ্রুত স্থিতিশীল করা প্রয়োজন; কিন্তু রিসেপশন বলে — ডিউটি ডাক্তার দেখার আগেই টাকা ৫০,০০০ নগদ লাগবে। এই অস্বীকৃতি বেআইনি — এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আইনি কাঠামো ইতিমধ্যেই তৈরি।
তিনটি উৎস মিলে এই দায়িত্ব তৈরি করে। সংবিধান ভিত্তি স্থাপন করে। মেডিকেল প্র্যাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিকস ও ল্যাবরেটরিজ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ (Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance 1982) বেসরকারি ক্লিনিককে লাইসেন্স দেয়। আর DGHS-এর একাধিক প্রশাসনিক আদেশ এই সাংবিধানিক নীতিকে এমন লাইসেন্স-শর্তে রূপান্তরিত করে যা প্রতিটি জরুরি বিভাগ-যুক্ত বেসরকারি হাসপাতালকে মানতে হবে।
- অনুচ্ছেদ ১৮(১) জনস্বাস্থ্যকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলে। অনুচ্ছেদ ১৫(ক) চিকিৎসা সেবাকে জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এগুলো রয়েছে সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে — রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে — এবং দেশের প্রতিটি DGHS হাসপাতাল, BSMMU ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এর অধীন।
- অনুচ্ছেদ ৩২ জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে। হাইকোর্ট বিভাগ এটিকে অনুচ্ছেদ ১৫(ক) ও ১৮(১)-এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়েছে — সরকারি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালকে আগে স্থিতিশীল করতে হবে, পরে বিল ধরাতে হবে।
- ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ লাইসেন্সের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালকেও এই দায়িত্বের মধ্যে আনে। DGHS সার্কুলার বারবার লাইসেন্সধারীদের বলেছে — রোগীকে নিবন্ধন করুন, সংকটাপন্ন অবস্থায় স্থিতিশীল করুন, তারপর টাকার কথা বলুন — অন্যথায় লাইসেন্স ঝুঁকিতে।
এই দায়িত্ব কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক? মামলা ও সংবাদে তিনটি পরিস্থিতি প্রভাব বিস্তার করে: সড়ক-দুর্ঘটনার আঘাত, প্রসূতি জরুরি অবস্থা, এবং তীব্র হার্ট-অ্যাটাক। লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল যদি প্রসব-যন্ত্রণায় থাকা মাকে ফিরিয়ে দেয়, স্ট্রোক রোগীর ট্রায়াজের আগে জামানত চায়, বা দুর্ঘটনায় আহতকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে — তাহলে সে আইনের বাইরে এবং তার লাইসেন্স-শর্তের বাইরে কাজ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান — জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — সর্বদা জরুরি রোগী গ্রহণ করতে বাধ্য। বেসরকারি হাসপাতালকে অন্তত স্থিতিশীল করতে হবে এবং তারপর রেফার করতে হবে।
আগে স্থিতিশীল করুন। পরে বিল করুন। সংবিধান রোগীর পাশে আছে।
When does it apply?
- আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছেন — দুর্ঘটনা, হার্ট-অ্যাটাক, স্ট্রোক, তীব্র রক্তক্ষরণ, প্রসূতি জরুরি, আত্মহত্যার চেষ্টা, এসিড-আক্রমণ।
- হাসপাতালটি একটি সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বা জরুরি বিভাগ-সম্পন্ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল।
- অস্বীকৃতি বা বিলম্বের পেছনে অজুহাত — ভর্তি জামানত দিতে না পারা, গ্যারান্টর না থাকা, বা রোগী অপরিচিত।
বাংলাদেশে কোনো হাসপাতাল জরুরি সেবা অস্বীকার করলে কী করবেন
আপনি জরুরি ডেস্কে দাঁড়িয়ে আছেন, রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। পরের ১০ মিনিট পরে যেকোনো অভিযোগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে যে ক্রমে কাজ করলে ফল পাওয়া যায়:
- আইনি দায়িত্ব শান্তভাবে ও স্পষ্টভাবে বলুন — সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ এবং ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পেমেন্ট আলোচনার আগে হাসপাতালকে স্থিতিশীল করতে হবে। "শান্তভাবে" কথাটা গুরুত্বপূর্ণ — চিৎকার করলে স্টাফ আরো গাঁট হয়।
- ডিউটি ডাক্তারকে নাম ধরে চান, তারপর ডিউটিতে থাকা Resident Medical Officer (RMO) বা হাসপাতাল পরিচালক। আগমনের সময়, অস্বীকৃতির সময় এবং প্রতিটি কর্মীর নাম লিখে রাখুন।
- যা পারেন ছবি তুলুন — জরুরি বিভাগের সাইনবোর্ড, ডেস্কে টাঙানো "ভর্তির আগে জামানত" নোটিশ, এবং (সম্ভব হলে সম্মতিসহ) রোগীর অবস্থা।
- DGHS স্বাস্থ্য কল সেন্টার ১৬২৬৩-এ ফোন করুন। এটি ২৪ ঘণ্টার রাষ্ট্রীয় হেল্পলাইন; এটি সরাসরি হাসপাতালের ওপর চাপ দিতে পারে বা অ্যাম্বুলেন্সকে এমন কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারে যারা রোগী নেবে।
- হাসপাতালের ভেতরে এসকেলেট করুন — জরুরি ডেস্ক, তারপর RMO, তারপর পরিচালক। বেশিরভাগ অস্বীকৃতি পরিচালকের অফিসে গিয়ে ভেঙে পড়ে যখন দায়িত্বটি লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়।
- মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত হলে অস্বীকৃতির পরে, DGHS পরিচালক (হাসপাতাল সেবা)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিন, প্রতিটি জড়িত নিবন্ধিত ডাক্তারের বিরুদ্ধে BMDC অভিযোগ করুন এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশন বিবেচনা করুন। BLAST ও ASK ঠিক এমন রিট দাখিল করেছে।
What should you NOT do?
- স্থিতিশীল না করে স্থানান্তরে রাজি হবেন না। ঢাকার যানজটের মধ্যে অস্থিতিশীল রোগীকে সরানো নিজেই অবহেলার মামলা হতে পারে। আগে স্থিতিশীল করুন; রেফারেল নোট সহ পরে স্থানান্তর।
- অনানুষ্ঠানিক "ICU বুকিং" বা "বেড বুকিং" ফি রসিদ ছাড়া নগদে দেবেন না। এটি চাঁদাবাজির লক্ষণ — এবং এটি আপনাকে পরে যে প্রমাণ লাগবে তা মুছে ফেলে।
- অস্বীকৃতির পর চুপচাপ চলে যাবেন না। OPD স্লিপ নেই, তারিখযুক্ত অস্বীকৃতি নোট নেই, লিখিত অভিযোগ নেই? — মামলা শুরুর আগেই হেরে গেলেন।
Common Questions
বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল কি টাকা দিতে না পারলে জরুরি রোগী ফিরিয়ে দিতে পারে?
না। জরুরি বিভাগ-যুক্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালকে পেমেন্ট আলোচনার আগে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোগীকে স্থিতিশীল করতে হবে। এই দায়িত্বের উৎস — সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২, মেডিকেল প্র্যাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিকস ও ল্যাবরেটরিজ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং DGHS-এর লাইসেন্স সার্কুলার। অস্বীকৃতি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ও হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের কারণ হতে পারে।
হাসপাতাল চিকিৎসা অস্বীকার করলে কোন নম্বরে ফোন করব?
DGHS স্বাস্থ্য কল সেন্টার ১৬২৬৩-এ ফোন করুন। এটি ২৪ ঘণ্টার সরকারি হেল্পলাইন, যা অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে এবং সরাসরি হাসপাতালের ওপর চাপ দিতে পারে। তারিখ, সময় ও রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন — লিখিত অভিযোগ বা রিট পিটিশনে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
জরুরি চিকিৎসা অস্বীকারের জন্য কি রিট দাখিল করা যায়?
হ্যাঁ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এবং সরকারি কাজ পরিচালনাকারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে নির্দেশনা দিতে পারে — যখন জরুরি সেবা অস্বীকার অনুচ্ছেদ ৩২-এর জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করে। BLAST ও ASK-এর মতো সংস্থা মৃত্যু-অস্বীকৃতির মামলায় এমন রিট দাখিল করেছে।
When does it apply — সরকারি হাসপাতালকে অবশ্যই জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে?
আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছেন — দুর্ঘটনা, হার্ট-অ্যাটাক, স্ট্রোক, তীব্র রক্তক্ষরণ, প্রসূতি জরুরি, আত্মহত্যার চেষ্টা, এসিড-আক্রমণ।হাসপাতালটি একটি সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বা জরুরি বিভাগ-সম্পন্ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল।অস্বীকৃতি বা বিলম্বের পেছনে অজুহাত — ভর্তি জামানত দিতে না পারা, গ্যারান্টর না থাকা, বা রোগী অপরিচিত।
বাংলাদেশে আমার জরুরি রোগীকে হাসপাতাল ভর্তি না নিলে কী করব?
আপনি জরুরি ডেস্কে দাঁড়িয়ে আছেন, রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। পরের ১০ মিনিট পরে যেকোনো অভিযোগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে যে ক্রমে কাজ করলে ফল পাওয়া যায়:আইনি দায়িত্ব শান্তভাবে ও স্পষ্টভাবে বলুন — সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ এবং ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পেমেন্ট আলোচনার আগে হাসপাতালকে স্থিতিশীল করতে হবে। "শান্তভাবে" কথাটা গুরুত্বপূর্ণ — চিৎকার করলে স্টাফ আরো গাঁট হয়।ডিউটি ডাক্তারকে নাম ধরে চান, তারপর ডিউটিতে থাকা Resident Medical Officer (RMO) বা হাসপাতাল পরিচালক। আগমনের সময়, অস্বীকৃতির সময় এবং প্রতিটি কর্মীর নাম লিখে রাখুন।যা পারেন ছবি তুলুন — জরুরি বিভাগের সাইনবোর...
What should you NOT do — সরকারি হাসপাতালকে অবশ্যই জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে?
স্থিতিশীল না করে স্থানান্তরে রাজি হবেন না। ঢাকার যানজটের মধ্যে অস্থিতিশীল রোগীকে সরানো নিজেই অবহেলার মামলা হতে পারে। আগে স্থিতিশীল করুন; রেফারেল নোট সহ পরে স্থানান্তর।অনানুষ্ঠানিক "ICU বুকিং" বা "বেড বুকিং" ফি রসিদ ছাড়া নগদে দেবেন না। এটি চাঁদাবাজির লক্ষণ — এবং এটি আপনাকে পরে যে প্রমাণ লাগবে তা মুছে ফেলে।অস্বীকৃতির পর চুপচাপ চলে যাবেন না। OPD স্লিপ নেই, তারিখযুক্ত অস্বীকৃতি নোট নেই, লিখিত অভিযোগ নেই? — মামলা শুরুর আগেই হেরে গেলেন।