পুলিশের মুখোমুখি
গ্রেপ্তারের কারণ, ২৪ ঘণ্টার নিয়ম, BLAST নির্দেশনা, রিমান্ড সীমা, জামিন ও হেফাজতে নির্যাতন থেকে সুরক্ষা।
Covered in this guide:
- গ্রেপ্তারের কারণ জানার ও আইনজীবী পাওয়ার অধিকার
- ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার ২৪ ঘণ্টা
- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের গ্রেপ্তার ক্ষমতা ও ব্লাস্ট নির্দেশনা
- পুলিশ রিমান্ডের (হেফাজতের) সীমা
- পুলিশকে অভিযোগ (এফআইআর) নথিভুক্ত করতে বাধ্য করা
- কখন আপনি জামিনের অধিকারী
- গ্রেপ্তারকৃত নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা
- বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে নিবারণমূলক আটক
- and 4 more topics
পুলিশের সামনে আপনার সুরক্ষা তিন স্তরে: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২, ৩৩ ও ৩৫; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ৫৪, ৬১, ১৫৪, ১৬৭ ও ৪৯৬–৪৯৮; এবং BLAST v. Bangladesh, 55 DLR (HCD) 363 (2003)-এর ১৫টি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা — পরিচয়পত্র, লিখিত কারণ, পরিবারকে অবহিতকরণ, মেডিকেল পরীক্ষা। আপনাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে এবং আইনজীবীর অধিকার আছে। হেফাজতে নির্যাতন অপরাধ — নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩।
Key Laws
বাংলাদেশের সংবিধান — অনুচ্ছেদ ৩২, ৩৩, ৩৫ (Constitution of Bangladesh — Arts. 32, 33, 35)
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ১৯৭২ (Constitution of the People's Republic of Bangladesh, 1972)
জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার (অনু. ৩২), গ্রেপ্তারের কারণ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের অধিকার (অনু. ৩৩), এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদান ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা (অনু. ৩৫)।
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure 1898)
১৮৯৮ সালের ৫ নম্বর আইন (CrPC) — ধারা ৫০, ৫৪, ৬১, ১৫৪, ১৬৭, ৪৯৬–৪৯৮
ফৌজদারি কার্যপ্রক্রিয়ার মূল আইন — পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির, এফআইআর নিবন্ধন, পুলিশ রিমান্ড ও জামিন বিষয়ক বিধান।
BLAST v. Bangladesh (১৫টি নির্দেশনা)
55 DLR (HCD) 363 (2003); Civil Appeal No. 53 of 2004 (AD, 24 May 2016)-এ অনুমোদিত
ধারা ৫৪-এর গ্রেপ্তার ও ধারা ১৬৭-এর রিমান্ডকে নিয়ন্ত্রণকারী হাইকোর্টের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা — পরিচয় প্রকাশ, কারণ লিখন, পরিবারকে জানানো, মেডিকেল পরীক্ষা, অপ্রয়োজনে হ্যান্ডকাফ নয়।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ (Torture and Custodial Death (Prevention) Act 2013)
২০১৩ সালের ৫০ নম্বর আইন — ধারা ২, ৪, ৫, ১৩, ১৫
হেফাজতে নির্যাতনকে সংজ্ঞায়িত করে এবং অপরাধ ঘোষণা করে। হেফাজতে মৃত্যুর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা; অভিযোগ দায়ের হবে দায়রা জজের কাছে।
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ (Cyber Security Ordinance 2025)
অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেট, মে ২০২৫ — পূর্বতন সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বাতিল করে
অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেটে মে ২০২৫-এ বাতিল হয়েছে CSA 2023 (যা ২০১৮-র Digital Security Act-এর জায়গা নিয়েছিল)। নতুন অধ্যাদেশ পুরনো আইনের ধারা ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩৪ পুরোপুরি বাদ দিয়েছে — মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতি, প্রপাগান্ডা ও আইন-শৃঙ্খলা অবমাননার সব ধারা। অধ্যাদেশের ধারা ৫০ অনুযায়ী এই বাতিল ধারাগুলোর অধীনে চলমান সব তদন্ত, বিচার ও মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ। হ্যাকিং, ডেটা চুরি, শিশু-পর্নোগ্রাফি ও পরিচয় জালিয়াতি — বাকি সাইবার অপরাধ ধারা ১৭-২৩-এ থেকে গেছে এবং জামিনযোগ্য। আপনার বিরুদ্ধে CSA-র বাতিল ধারায় মামলা থাকলে আদালতে অধ্যাদেশের ধারা ৫০ উদ্ধৃত করে খারিজের আবেদন করুন।
গ্রেপ্তারের কারণ জানার ও আইনজীবী পাওয়ার অধিকার
একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি এইমাত্র বলেন আপনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, তবে প্রথম যা জানা দরকার তা হলো — তাঁকে অবশ্যই বলতে হবে কেন, আপনার বোঝার মতো ভাষায়, ঠিক তখনই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(১) (Constitution of Ba...
ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার ২৪ ঘণ্টা
২৪ ঘণ্টা। ২৫ নয়, "শিগগিরই" নয়, "ছুটি শেষে" নয়। সংবিধান এই বিষয়ে নিখুঁত। অনুচ্ছেদ ৩৩(২) (Art. 33(2)) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১ (CrPC §61) মিলে একটি কঠিন সর্বোচ্চ সীমা স্থির...
পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের গ্রেপ্তার ক্ষমতা ও ব্লাস্ট নির্দেশনা
বাংলাদেশে ধারা ৫৪-এর বেশিরভাগ আটক অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়। ১৫টি ব্লাস্ট নির্দেশনা সেটার কারণ। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরোয়ানা ছাড়াই — আমলযোগ্য অপরাধের "যুক্তিসঙ্গত সন্দে...
পুলিশ রিমান্ডের (হেফাজতের) সীমা
রিমান্ড — তদন্তকালীন পুলিশ হেফাজত — ফৌজদারি মামলার সেই পর্যায় যেখানে বাংলাদেশে হেফাজতে নির্যাতনের অধিকাংশ অভিযোগ আসলে জন্ম নেয়। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ (CrPC §167)-এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়,...
পুলিশকে অভিযোগ (এফআইআর) নথিভুক্ত করতে বাধ্য করা
মিরপুরের এক নারী তাঁর ভাইকে মারধর করার পর এফআইআর করতে গেলেন। থানার ডিউটি অফিসার তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন — "পরের সপ্তাহে আসুন।" এই প্রত্যাখ্যানের জন্যই ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৬(৩) আছে: তিনি এক...
কখন আপনি জামিনের অধিকারী
বাংলাদেশে জামিন চলে ফৌজদারি কার্যবিধির তিনটি ধারায়: জামিনযোগ্য অপরাধে ধারা ৪৯৬, অজামিনযোগ্য অপরাধে ধারা ৪৯৭, এবং হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ জামিন ক্ষমতার জন্য ধারা ৪৯৮ — যার মধ্যে আগাম জামিনও আছে।ধারা ৪...
গ্রেপ্তারকৃত নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা
বাংলাদেশে নারী গ্রেপ্তারের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনটি আইনি উৎস কাজ করে: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২, BLAST v. Bangladesh-এর নির্দেশনা, এবং Police Regulations of Bengal 1943-এর প্রবিধান ৩৩০। একসঙ্গে এগুলো স...
বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে নিবারণমূলক আটক
নিবারণমূলক আটক গ্রেপ্তার নয়। কোনো অভিযোগ নেই, বিচার নেই, জবাব দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ নেই — কেবল একটি নির্বাহী আদেশ যাতে সরকার বলছে আপনি ক্ষতিকর কিছু করতে পারেন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (Special Powers...
হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অধিকার
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী নির্যাতন-বিরোধী আইনগুলোর একটি বাংলাদেশে রয়েছে: নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ (Torture and Custodial Death (Prevention) Act 2013; ২০১৩ সালের ৫০ নম্বর আই...
NID ও পরিচয় — পুলিশের চেকপয়েন্ট / যাচাইয়ে আপনার অধিকার
বাংলাদেশের পরিচয়-শাসন মার্কিন বা ব্রিটিশের চেয়ে আলাদা। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ (NID Registration Act 2010)-এর অধীনে প্রত্যেক ভোটার-উপযুক্ত (ন্যূনতম ১৮ বছর) বাংলাদেশি নাগরিকের NID পাওয়ার...
তল্লাশি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ — CrPC ও সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫
বাংলাদেশে তল্লাশি ও জব্দ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ধারা ৯৬–১০৩ ও ১৬৫-এ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। বাসা তল্লাশির জন্য সাধারণত আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে (ধারা ৯৬–৯৮)। ধারা ১৬৫-এর অধীনে "অযৌক্তিক...
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ — IGP Complaint Cell, NHRC, PBI, Ombudsman
বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের চারটি সমান্তরাল চ্যানেল রয়েছে। ক্ষতির ধরন অনুযায়ী চয়ন করুন।IGP Complaint Cell (Inspector General of Police-এর অভিযোগ সেল)। ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত পুলিশের...