পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের গ্রেপ্তার ক্ষমতা ও ব্লাস্ট নির্দেশনা in বাংলাদেশ

Last verified:

Source: Code of Criminal Procedure 1898 §54; BLAST v. Bangladesh, 55 DLR (HCD) 363 (2003); Civil Appeal No. 53 of 2004 (AD, 24 May 2016)

Commoner Law সম্পাদকীয় দল দ্বারা পর্যালোচিত। তথ্যসূত্র: bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত বাংলাদেশের আইন ও অধ্যাদেশ, সরকারি মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার, ও সুপ্রিম কোর্টের রায়। সাধারণ বোঝাপড়ার জন্য সহজ ভাষায় লেখা — এটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট, আইনি পরামর্শ নয়। Our editorial standards

বাংলাদেশ জাতীয় আইন

What is this right?

বাংলাদেশে ধারা ৫৪-এর বেশিরভাগ আটক অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়। ১৫টি ব্লাস্ট নির্দেশনা সেটার কারণ। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরোয়ানা ছাড়াই — আমলযোগ্য অপরাধের "যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে" — যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেয়। আমলযোগ্য অপরাধ মানে যেগুলো ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া পুলিশ তদন্ত করতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে ধারা ৫৪ ফৌজদারি বিধির সবচেয়ে অপব্যবহৃত ক্ষমতা ছিল — হয়রানি, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধরপাকড়ের জন্য।

সেই ইতিহাসই হাইকোর্ট বিভাগকে এগিয়ে আসতে বাধ্য করেছিল। BLAST and others v. Bangladesh, 55 DLR (HCD) 363 (2003) মামলায় আদালত বলেন — ধারা ৫৪ এবং ধারা ১৬৭-এর সম্পর্কিত রিমান্ড ক্ষমতা অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫-এর লঙ্ঘন করে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারপর আদালত প্রতিটি কর্মকর্তার মেনে চলার জন্য ১৫টি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেন। আপিল বিভাগ Civil Appeal No. 53 of 2004 মামলায় ২০১৬ সালের ২৪ মে রায় দিয়ে সেই নির্দেশনা বহাল ও পরিমার্জিত করেন।

সরল ভাষায় নির্দেশনাগুলো। কর্মকর্তারা পরিবারকে না জানিয়ে কাউকে নিয়ে যেতে পারবেন না। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে পারবেন না। গৎবাঁধা শব্দে "যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ" সাজাতে পারবেন না। সুনির্দিষ্টভাবে:

  • কর্মকর্তাকে অবশ্যই পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং নাম-পদ জানাতে হবে।
  • কর্মকর্তাকে স্টেশন ডায়েরিতে গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
  • একটি গ্রেপ্তার মেমো তৈরি করতে হবে এবং তাতে একজন সাক্ষী — সম্ভব হলে পরিবারের সদস্য বা এলাকার সম্মানিত কেউ — সই করবেন।
  • গ্রেপ্তারকৃতের পরিবার বা বন্ধুকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে।
  • গ্রেপ্তারের সময় ও যেকোনো রিমান্ডের আগে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হবে।
  • পালানোর সত্যিকারের ঝুঁকি না থাকলে গ্রেপ্তারকৃতকে হ্যান্ডকাফ পরানো যাবে না
  • গ্রেপ্তারকৃত যে ভাষা বোঝেন সেই ভাষায় গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে।
  • গ্রেপ্তারের মুহূর্ত থেকেই গ্রেপ্তারকৃতকে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দিতে হবে।

When does it apply?

  • ধারা ৫৪-এর অধীনে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি বা ধারা ৫৪-এর ক্ষমতা প্রয়োগকারী যেকোনো কর্মকর্তার যে কোনো পরোয়ানা-বহির্ভূত গ্রেপ্তার।
  • ধারা ১৬৭-এর অধীনে রিমান্ড বিবেচনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা বাধ্যকর।
  • নির্দেশনাগুলো সারা দেশে এবং প্রতিটি ধরনের আমলযোগ্য অপরাধে প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে ধারা ৫৪-এ গ্রেপ্তার হলে কী করবেন

  • কর্মকর্তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলুন। নাম, পদ ও ব্যাজ নম্বর টুকে নিন।
  • গ্রেপ্তার মেমো চান এবং একজন আত্মীয় বা স্থানীয় সাক্ষীর সই অনুরোধ করুন।
  • থানায় নেওয়ার আগে এবং যেকোনো রিমান্ডের আগেও মেডিকেল পরীক্ষায় জোর দিন।
  • প্রতিটি লঙ্ঘন নথিভুক্ত করুন — পরিচয় দিতে অস্বীকার, মেমো না থাকা, সাক্ষী না থাকা, মেডিকেল না হওয়া। প্রতিটি আলাদা মামলার ভিত্তি হতে পারে।
  • আপনার পরিবার ব্লাস্ট নির্দেশনাগুলো সরাসরি উদ্ধৃত করে অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে। এই ভিত্তিতেই হাইকোর্ট বিভাগ বহুবার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

What should you NOT do?

  • কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার মেমো এড়িয়ে যেতে দেবেন না। এর অনুপস্থিতি হেবিয়াস কর্পাসের অন্যতম শক্ত ভিত্তি।
  • আপনি যদি সহিংস না হন বা পালানোর চেষ্টা না করেন, তবে প্রতিবাদ ছাড়া হ্যান্ডকাফ মেনে নেবেন না — লঙ্ঘনটি লিখে রাখুন।
  • মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়বেন না। হেফাজতের আগে আপনার শারীরিক অবস্থার সমকালীন একমাত্র নথি সেটিই।

Common Questions

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ কী?

এটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর সেই ধারা যা পুলিশকে আমলযোগ্য অপরাধের যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। আমলযোগ্য অপরাধের সংজ্ঞা ব্যাপক হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবে ধারা ৫৪ বাংলাদেশের সবচেয়ে অপব্যবহৃত গ্রেপ্তার ক্ষমতা — সেই অপব্যবহারই BLAST v. Bangladesh রায়ের জন্ম দিয়েছে।

ব্লাস্ট নির্দেশনা কী?

BLAST v. Bangladesh, 55 DLR (HCD) 363 (2003) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ অনুমোদিত পনেরোটি বাধ্যতামূলক নিয়ম। অন্যান্যের মধ্যে এগুলো বলে — কর্মকর্তা পরিচয়পত্র দেখাবেন, লিখিতভাবে কারণ নথিভুক্ত করবেন, সাক্ষীসহ গ্রেপ্তার মেমো প্রস্তুত করবেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাবেন এবং গ্রেপ্তারের সময় ও যেকোনো রিমান্ডের আগে মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন।

ব্লাস্ট নির্দেশনা কি আদালতে প্রয়োগ করা যায়?

যায় — এবং নিয়মিতভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সকল অধস্তন আদালতের জন্য বাধ্যকর করে। হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট লঙ্ঘন (গ্রেপ্তার মেমো নেই, মেডিকেল পরীক্ষা হয়নি, পরিবারকে জানানো হয়নি) উল্লেখ করা হয় এবং আদালত মুক্তি ও কখনো কখনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছেন।

When does it applyপরোয়ানা ছাড়া পুলিশের গ্রেপ্তার ক্ষমতা ও ব্লাস্ট নির্দেশনা?

ধারা ৫৪-এর অধীনে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি বা ধারা ৫৪-এর ক্ষমতা প্রয়োগকারী যেকোনো কর্মকর্তার যে কোনো পরোয়ানা-বহির্ভূত গ্রেপ্তার।ধারা ১৬৭-এর অধীনে রিমান্ড বিবেচনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা বাধ্যকর।নির্দেশনাগুলো সারা দেশে এবং প্রতিটি ধরনের আমলযোগ্য অপরাধে প্রযোজ্য।

ধারা ৫৪-এর অধীনে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করলে কী করব?

কর্মকর্তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলুন। নাম, পদ ও ব্যাজ নম্বর টুকে নিন।গ্রেপ্তার মেমো চান এবং একজন আত্মীয় বা স্থানীয় সাক্ষীর সই অনুরোধ করুন।থানায় নেওয়ার আগে এবং যেকোনো রিমান্ডের আগেও মেডিকেল পরীক্ষায় জোর দিন।প্রতিটি লঙ্ঘন নথিভুক্ত করুন — পরিচয় দিতে অস্বীকার, মেমো না থাকা, সাক্ষী না থাকা, মেডিকেল না হওয়া। প্রতিটি আলাদা মামলার ভিত্তি হতে পারে।আপনার পরিবার ব্লাস্ট নির্দেশনাগুলো সরাসরি উদ্ধৃত করে অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে। এই ভিত্তিতেই হাইকোর্ট বিভাগ বহুবার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

What should you NOT doপরোয়ানা ছাড়া পুলিশের গ্রেপ্তার ক্ষমতা ও ব্লাস্ট নির্দেশনা?

কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার মেমো এড়িয়ে যেতে দেবেন না। এর অনুপস্থিতি হেবিয়াস কর্পাসের অন্যতম শক্ত ভিত্তি।আপনি যদি সহিংস না হন বা পালানোর চেষ্টা না করেন, তবে প্রতিবাদ ছাড়া হ্যান্ডকাফ মেনে নেবেন না — লঙ্ঘনটি লিখে রাখুন।মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়বেন না। হেফাজতের আগে আপনার শারীরিক অবস্থার সমকালীন একমাত্র নথি সেটিই।

You came here to know your rights — help someone else know theirs.

Support This Mission