কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম মজুরি in বাংলাদেশ

Last verified:

Source: Bangladesh Labour Act 2006, §§100, 102, 108; Labour Rules 2015, rr.102–104

Commoner Law সম্পাদকীয় দল দ্বারা পর্যালোচিত। তথ্যসূত্র: bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত বাংলাদেশের আইন ও অধ্যাদেশ, সরকারি মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার, ও সুপ্রিম কোর্টের রায়। সাধারণ বোঝাপড়ার জন্য সহজ ভাষায় লেখা — এটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট, আইনি পরামর্শ নয়। Our editorial standards

বাংলাদেশ জাতীয় আইন

What is this right?

আট ঘণ্টা। আটচল্লিশ ঘণ্টা। দ্বিগুণ মজুরি। মনে রাখার জন্য এই তিনটি সংখ্যা।

  • ধারা ১০০ — দৈনিক ঘণ্টা: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বলা যাবে না।
  • ধারা ১০২ — সাপ্তাহিক ঘণ্টা: সাধারণ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সপ্তাহে ৪৮। ওভারটাইমসহ মোট ঘণ্টা সপ্তাহে ৬০-এর বেশি হওয়া যাবে না, এবং বার্ষিক গড় সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি হবে না।
  • ধারা ১০৮ — ওভারটাইম মজুরি: সাধারণ ঘণ্টার বাইরে যা কিছু — তা সাধারণ মজুরির দ্বিগুণ (২×) হারে দিতে হবে, মূল মজুরি ও মহার্ঘ/জীবনযাত্রা ভাতার ভিত্তিতে হিসাব করে।
  • বিধি ১০২ (শ্রম বিধিমালা ২০১৫): প্রতিটি নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই একটি ওভারটাইম রেজিস্টার রাখতে হবে — তারিখ, ঘণ্টা, প্রদত্ত অর্থ।

আইন ও বাস্তবতার ফারাক RMG খাতে সবচেয়ে বড়। দেরিতে শিপমেন্টের ডেডলাইন জোরপূর্বক ওভারটাইম তৈরি করে; পাঞ্চ-আউটের পরে রেকর্ড না-করা ঘণ্টা সাধারণ ঘটনা; দ্বিগুণ ছাড়াই শুধু মূল মজুরির ওপর ওভারটাইম হিসাব করা হয়; ফ্ল্যাট "প্রোডাকশন বোনাস"-কে ওভারটাইম পেমেন্ট বলে চালানো হয়। এর কোনোটিই বৈধ নয় — শুধু কেউ প্রয়োগ করছে না।

When does it apply?

  • আপনি শ্রম আইন ২০০৬-এর আওতাভুক্ত কোনো কারখানা, দোকান বা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক
  • কিশোর শ্রমিকদের (১৪-১৮) জন্য আলাদা সীমা — শিশুশ্রমের পৃষ্ঠা দেখুন।
  • কিছু খাতে (যেমন সড়ক পরিবহনের চালক, কৃষি শ্রমিক) আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।

নিয়োগকর্তা ওভারটাইম দিতে অস্বীকার করলে বাংলাদেশে কী করবেন

শ্রমিকেরা যে সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন — ভাবেন নিয়োগকর্তার রেজিস্টারই একমাত্র রেকর্ড। তা নয় — আপনার নিজের রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ।

  • নিজের ইন/আউট সময়ের লগ রাখুন। পাঞ্চ-কার্ড ডিসপ্লে বা হাজিরা বোর্ডের ফোন-ছবি গ্রহণযোগ্য।
  • পাওনা ওভারটাইম হিসাব করুন: দৈনিক ৮ বা সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত × ২ × সাধারণ ঘণ্টাপ্রতি মজুরি (মূল + মহার্ঘ ÷ মাসিক ২০৮ ঘণ্টা)।
  • এইচআর-এর কাছে ওভারটাইম রেজিস্টার চান — বিধি ১০২ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক নিজের এন্ট্রি দেখতে পারেন।
  • ওভারটাইম না দিলে বা ভুলভাবে হিসাব করলে লিখিতভাবে অভিযোগ করুন, এরপর DIFE-তে জানান বা ১২ মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে অর্থ দাবির মামলা করুন।
  • ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যরা ইউনিয়নকে দিয়ে সব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পক্ষে যৌথ অভিযোগ দাখিল করাতে পারেন।

What should you NOT do?

  • "প্রোডাকশন টার্গেট"-এ রাজি হবেন না যা মূলত ওভারটাইম না দেওয়ার কৌশল — পিস-রেট টপ-আপ আইনি ২× ওভারটাইমের বিকল্প নয়।
  • পাঞ্চ-আউট করে কাজ চালিয়ে যাবেন না। তাতে আপনার নিজের ঘণ্টার প্রমাণই নষ্ট হয়।
  • স্মৃতির ওপর নির্ভর করবেন না। নিজস্ব সমকালীন রেকর্ড না থাকলে নিয়োগকর্তার রেজিস্টারই চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

Common Questions

বাংলাদেশে আইনি সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কত?

দিনে আট ঘণ্টা, সপ্তাহে আটচল্লিশ — শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১০০ ও ১০২ অনুযায়ী। ওভারটাইমসহ মোট ঘণ্টা সপ্তাহে ৬০-এর বেশি হওয়া যাবে না, আর বার্ষিক গড় সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টা ছাড়াতে পারবে না। দিনে ৮ বা সপ্তাহে ৪৮-এর অতিরিক্ত যা কিছু — সবই ওভারটাইম, এবং সেভাবেই মজুরি দিতে হবে।

বাংলাদেশে ওভারটাইম মজুরির হার কী?

সাধারণ মজুরির দ্বিগুণ — এটাই ধারা ১০৮। হিসাবের ভিত্তি মূল মজুরি প্লাস মহার্ঘ বা জীবনযাত্রা ভাতা, প্রমিত মাসিক ঘণ্টা (সাধারণত ২০৮) দিয়ে ভাগ করা। যদি আপনার কারখানা শুধু মূল মজুরির ওপর কোনো দ্বিগুণ ছাড়াই ওভারটাইম দেয়, বা ফ্ল্যাট "প্রোডাকশন বোনাস" ধরিয়ে দেয় — সেটা আইনি ওভারটাইম নয়, ভিন্ন মোড়কে কম মজুরি।

অপ্রদেয় ওভারটাইম কীভাবে প্রমাণ করব?

মামলা নিজে গড়ে তুলুন। প্রতিদিন ইন/আউট সময় লিখে রাখুন, যেখানে সম্ভব হাজিরা বোর্ডের ছবি তুলুন, এবং শ্রম বিধিমালা ২০১৫-র বিধি ১০২ অনুযায়ী রক্ষিত ওভারটাইম রেজিস্টার এইচআর-এর কাছে চান। সেই নথি দিয়ে DIFE-তে অভিযোগ করতে পারেন বা শ্রম আদালতে ধারা ১৩২-র অর্থ দাবির মামলা করতে পারেন — কম মজুরির ১২ মাসের মধ্যে।

When does it applyকর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম মজুরি?

আপনি শ্রম আইন ২০০৬-এর আওতাভুক্ত কোনো কারখানা, দোকান বা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক।কিশোর শ্রমিকদের (১৪-১৮) জন্য আলাদা সীমা — শিশুশ্রমের পৃষ্ঠা দেখুন।কিছু খাতে (যেমন সড়ক পরিবহনের চালক, কৃষি শ্রমিক) আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।

আমার কারখানা ঠিকমতো ওভারটাইম দিচ্ছে না — বাংলাদেশে কী করব?

শ্রমিকেরা যে সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন — ভাবেন নিয়োগকর্তার রেজিস্টারই একমাত্র রেকর্ড। তা নয় — আপনার নিজের রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ।নিজের ইন/আউট সময়ের লগ রাখুন। পাঞ্চ-কার্ড ডিসপ্লে বা হাজিরা বোর্ডের ফোন-ছবি গ্রহণযোগ্য।পাওনা ওভারটাইম হিসাব করুন: দৈনিক ৮ বা সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত × ২ × সাধারণ ঘণ্টাপ্রতি মজুরি (মূল + মহার্ঘ ÷ মাসিক ২০৮ ঘণ্টা)।এইচআর-এর কাছে ওভারটাইম রেজিস্টার চান — বিধি ১০২ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক নিজের এন্ট্রি দেখতে পারেন।ওভারটাইম না দিলে বা ভুলভাবে হিসাব করলে লিখিতভাবে অভিযোগ করুন, এরপর DIFE-তে জানান বা ১২ মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে অর্থ দাবির মামলা করুন।ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যরা ইউন...

What should you NOT doকর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম মজুরি?

"প্রোডাকশন টার্গেট"-এ রাজি হবেন না যা মূলত ওভারটাইম না দেওয়ার কৌশল — পিস-রেট টপ-আপ আইনি ২× ওভারটাইমের বিকল্প নয়।পাঞ্চ-আউট করে কাজ চালিয়ে যাবেন না। তাতে আপনার নিজের ঘণ্টার প্রমাণই নষ্ট হয়।স্মৃতির ওপর নির্ভর করবেন না। নিজস্ব সমকালীন রেকর্ড না থাকলে নিয়োগকর্তার রেজিস্টারই চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

You came here to know your rights — help someone else know theirs.

Support This Mission